
কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:
কয়রা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও ইনফেকশন দেখা দিচ্ছে। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজেও নেমে এসেছে স্থবিরতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। কখন বিদ্যুৎ আসবে বা কখন যাবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয় না। ফলে সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। এলাকাবাসী আরও জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে জানতে বা অভিযোগ দিতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করা হলেও অধিকাংশ সময় কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। এতে মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই অসহনীয় পরিস্থিতির প্রতিবাদ এবং দ্রুত সমাধানের দাবিতে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলতলা অভিযোগ কেন্দ্রের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিনোদন ও সেবামূলক সংগঠন “ইফতার খাওয়া পার্টি — ই’খা’পা”-এর সদস্যরা। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা বিদ্যুৎ বিভাগের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, জনগণের মৌলিক সেবার মধ্যে বিদ্যুৎ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। অথচ কয়রা উপজেলায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দ্রুত এই সমস্যার কার্যকর সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এলাকাবাসী দ্রুত নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।